Barisal Report .Com । বরিশাল রিপোর্ট .কম

ঢাকা, ২৪শে মে, ২০১৯ ইং


প্রকাশ : এপ্রিল ২৩, ২০১৯ , ৭:১৫ অপরাহ্ণ
তুহীন আফসারীর মুক্ত কলাম। ” জয় ডাক্তার বাবার জয়”

সকাল বেলা বেরিয়ে আসার সময় কৈশরিক প্রেমের রোজনামচা লেখার ভুত মাথায় নিয়ে বের হলাম। বাসে বসে বেশ কিছুক্ষণ লেখার পর মনে হলো আজ আর হবেনা। আমি ভাবনার সাথে তাল মিলিয়ে গানে মন দিলাম। বাসে সবমিলিয়ে গোটা দশেক মানুষ। তেমন জমজমাট ভ্রমন হওয়ার কোন লক্ষ্মণই ছিলোনা বাসে। আমি কি ছাই জানি আমার দিনটি কেমন য়াবে
কোন কোন সময় আজব ধরনের মানুষের দেখা পেয়ে যায় আমরা যাদের সহচর্য্য শুধু সম্মৃদ্ধ করেনা মনকে গভির ভাবনার মধ্যে ফেলে দেয়। শেখা যায় ভিন্ন ধরনের জীবন দর্শন।

আমার বাহন হানিফ সাহেবের আরএন ৮। বগুড়া পার হবার পর যাত্রী মাত্র দুজন। আমি ডি ওয়ান থেকে এগিয়ে ওয়ানে। দুপ চাঁচিয়া পার হবার পর ড্রাইভার সাহেব খুব বিরক্ত। একা একা কথা বলে চলেছে। আমি কান থেকে গান শোনার যন্ত্র নামিয়ে কান পাতলা করলাম। বললাম কি হইছে? তিনি উত্তর দিলেন, কিছুনা স্যার, সব শালা মেন্টাল। আমি বললাম, মানে কি? উনি বললেন, স্যার ডিজিটাল বানাইতে গিয়ে আমাদের মেন্টাল বানাইতেছে। আমি এই দু লাইনের মধ্যে গল্পের আভাসে মগ্ন। শুধু উস্কানিমূলক দু একটি প্রশ্ন করে যা পাইলাম তা পাবার পর মনে হলো, আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম। আসেন শুনে আসি—-+

সমাজের অধিকাংশ মানুষ রুগী। যার কারনে কেও লাইনে চলে না। এইগুলা হইলো ডিজিটাল রোগ। কারো জ্বলান্টিস, কারো পোড়ান্টিস কারো বা ব্যাথান্টিস রোগ

যার জ্বলান্টিস হইছে সে সবকিছুতেই জ্বলে। মানুষের ভালো দেখলেই জ্বলে। কারো সুখ দেখলে, কারো বিত্ত দেখলে কারো, কারো চিত্ত দেখলেই যদি আপনার জ্বলে তবে আপনি নিশ্চিত ভাবে এই রোগের রুগী

আপনার যদি সবকিছুতেই পোড়ে তবে আপনি পোড়ান্টিসের রুগী। এদের পোড়ার লক্ষ্মণ অনেক ধরনের হয়। অন্যের জিনিস দখলে না নিলে পোড়া থামেনা। চেয়ার, বউ, গরু থেকে শুরু করে কোন জিনিসই বাদ পড়েনা এদের হাত থেকে

এইবার আসেন ব্যাথান্টিসে। সব কিছুতেই আপনি ব্যাথা পাবেন। তনু মরছে ব্যাথা, রাকিবে ব্যাথা, নুসরাতে ব্যাথা, ব্যাংক, শেয়ার, ভোট লুট হলেও ব্যাথা। এসব ব্যাথা হইলে শুধু আপনিই দাড়াবেন আপনার সাথে আপনার কোন কিছুই আর দাড়াবে না। তখন আপনার দেশ, আপনার সন্তান, আপনার মেয়ে, বউ সব দখল হয়ে যাবে। আর আপনি ব্যাথা পাইতেই থাকবেন

রোগ থাকলে তার ট্রিটমেন্ট আছো। প্রথমত দরকার এন্টিবায়োটিক ক্যাপসুল। সকাল রাতে এইসব রুগীকে থাপড়ামাইসিন ক্যাপসুল দিতে হবে। এরপর লাগবে ঝাটামাইসিন সিরাপ। খুব কার্ষকর ওষুধ এইটা। এরপর লাথিক্সোটেন ট্যবলেট।সব শেষে দিবেন লবারজেন আর বুরালজেন। তাইলে যদি রোগ সারে। তবে রোগ না সারলে হাতের পানি শুকানোর টাইম পাবেননা একদিন। বদনা নিয়ে শুধুই বসে থাকবেন

স্যার আসেন নামি। নওগাঁ চলে আসছি। নামেন, এককাপ চা খাওয়াই আপনাকে তারপর যাবেন। আমার মোহ তখনো কাটে নাই৷

আমি ভাবছি আমি কোন রোগের মধ্যে পড়ি। ইন্ডিয়াতে ডাক্তার দেখাইলাম। কেও কইলো স্পন্ডালাইটিস, একজন কইলো আর্থাারাইটিস। কিন্তু আজকের রোগের কথা কেও বলেনি

ভাবনা নিয়েই সিএনজিতে উঠলাম। ভাবনার গাড়ীতে করে বরাদ্দে রুমে ঢুকেই মেজাজটা জ্বলে গেলো। পাশের রুমটা কতভালো!!!
হায়! হায়! আমারতো এই রোগ আছে। ওষুধের কথা মনে হতেই আমি চুপ।
চুপ হতে গিয়েও হো হো করে হাসলাম। হোটেলের ছেলেগুলো কি মনে করলো কে জানে। যাকগে!!!
আমি তখনো হাসছি আর ভাবছি আপনার কথা

আপনারটা কি????

জয় ডাক্তার বাবার জয়!!! আবার আপনার যাত্রী হবো আমি

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
[tabs]