Barisal Report .Com । বরিশাল রিপোর্ট .কম

ঢাকা, ২১শে জুন, ২০১৯ ইং


প্রকাশ : মার্চ ২৮, ২০১৯ , ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন সম্মুখযোদ্ধা মজিদ

খোকন আহম্মেদ হীরা ॥ যুদ্ধ চলাকালীন সময় ১৮ বছরের টগবগে যুবক মীর আব্দুল মজিদ টানা নয়মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে একাধিকস্থানে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে বীরত্বের ভূমিকা পালন করেছেন। এ যোদ্ধা স্বাধীনতার বিজয় পতাকা ছিনিয়ে আনলেও জীবন যুদ্ধে পুরোপুরি পরাজিত। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে জীবিকার তাগিদে আজও তাকে অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে।

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পূর্ব মুন্ডপাশা গ্রামের মৃত মাজেদ আলীর পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর আব্দুল মজিদ বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ শুনে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ তারা ১১জনের একটি দল গঠণ করেন। প্রথমে তারা স্থানীয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ শুরু করেছিলেন।

পরবর্তীতে তারা ১১জন একসাথে ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দেশে ফেরার সময় যশোরের কালীগঞ্জে অধিনায়ক ওয়াজেদ গাজী ও কোম্পানী কমান্ডার আওলাদ হোসেনের নেতৃত্বে পাক সেনাদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

ওই যুদ্ধে তিনি (মীর আব্দুল মজিদ) সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে বীরত্বের ভূমিকা পালন করেছেন। এরপর তারা ১১জনই ৯নং সেক্টরের কমান্ডার মেজর এমএ জলিলের নেতৃত্বে একাধিক সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর আব্দুল মজিদ (৬৬) বলেন, দেশ স্বাধীনের পর সহযোগিদের নিয়ে আমি খুলনার হাদিস পার্কে আমার ৩০৩ রাইফেল জমা দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে একটি দূর্ঘটনায় আমার মুক্তিযুদ্ধের সকল কাগজপত্র হারিয়ে যায়।

পরবর্তীতে সহযোদ্ধাদের পরামর্শে মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শুরু হলে নির্ধারিত ফরম ও পরবর্তীতে অনলাইনে আবেদন করেছিলাম। ১০জন সহযোদ্ধার জোড়ালো স্বাক্ষীতে আমাকে একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সনাক্ত করা হয়।

এরপর স্বীকৃতির জন্য স্থানীয় কমান্ডারের দাবিকৃত মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিতে না পারায় আমাকে যাচাই-বাছাইয়ের ‘খ’ শাখায় রাখা হয়। এ ব্যাপারে আপীল করা সত্বেও আজও আমার ভাগ্যে জোটেনি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি। কোন কিছু পাওয়ার জন্য নয়; শুধুমাত্র আমি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়ে মৃত্যুবরণ করতে চাই। এজন্য আমি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

সূত্রমতে, যুদ্ধ চলাকালীন সময় ১৮ বছরের টগবগে যুবক মীর আব্দুল মজিদ পেশায় একজন দিনমজুর। অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করে একমাত্র কন্যাকে পাত্রস্থ করেছেন। তিনপুত্রের মধ্যে দুইজন তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। স্ত্রী ও কলেজ ছাত্র ছোট পুত্রকে নিয়ে তার অভাবের সংসার। বৃদ্ধ বয়সেও তাকে ভরণপোষনের জন্য দিনমজুরের কাজ করতে হচ্ছে। অর্থাভাবে বিনাচিকিৎসায় আজ তিনি নানারোগে আক্রান্ত।

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
[tabs]