Barisal Report .Com । বরিশাল রিপোর্ট .কম

ঢাকা, ২০শে জুন, ২০১৯ ইং


প্রকাশ : মার্চ ২৩, ২০১৯ , ৯:৩০ অপরাহ্ণ
বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের একদিন

অনলাইন ডেস্ক //খাদিজা আক্তার। পড়াশোনা করছে টাঙ্গাইলের ফ্রেন্ডশিপ স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে। খাদিজার বাবা খালেক অটোরিকশা চালক। তিন ভাই, দুই বোন ও বাবা-মা নিয়ে খাদিজার পরিবার। অটোরিকশা চালিয়ে কোনো মতে সংসারের খরচ চালাচ্ছেন ওর বাবা। শনিবার ছোট্ট খাদিজা প্রথমবারের মতো ঢাকায় এলো। ওর সঙ্গে এসেছে ফ্রেন্ডশিপ স্কুলের শিক্ষকেরাও।

দুপুরে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ডিসি কার্যালয়ের যখন খাদিজা এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলছিল, ওর চোখে-মুখে কৌতুহল, শত প্রশ্ন ও খুশির ঝিলিক। জিজ্ঞেস করলাম, কেন ঢাকায় এলে? ওর উত্তর, ‘ম্যাডামেরা বললো, ঢাকায় জাদুঘর দেখব। সেখান থেকে জাতির পিতার কথা জানব। ঢাকায় নাচের অনুষ্ঠান আছে। পার্কে গিয়ে কত খেলায় ঘুরতে পারব।’ এলোমেলোভাবে ছোট্ট শিশুটি অল্প কথায় অনেক কিছু বুঝিয়ে দিল।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে ওর বয়সী শিশুদের খুব বেশি জানার কথাও নয়। তবে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে এই প্রতিবেদক যখন আরো কিছু বললেন, তখন খাদিজা জানায়, গল্প শুনতে ভালো লাগে ওর। বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনতে চায় ও।

টাঙ্গাইল থেকে আসা ১০০ ছোট্ট শিশুকে নিয়ে সত্যিকার অর্থে ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেন তেজগাঁও বিভাগের ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার। সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুদের শনিবার ঘুরে ঘুরে দেখল ধানমন্ডির ২৭ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি জাদুঘর। জাতির এই সূর্যসন্তান সম্পর্কে জানল ওরা। এমন দিন ওদের জীবনে আর কখনও আসেনি! হয়ত ছোট্ট এই শিশুদের স্মৃতিতে থেকে যাবে এমন সুন্দর দিন।

ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার সমকালকে বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষির্কী ও জাতীয় শিশু দিবস ঘিরে রাজধানীসহ সারা দেশে নানা ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সমাজের মূল স্রোতধারায় যেসব শিশুরা রয়েছেন তাদের ঘিরেই মূলত এসব অনুষ্ঠান। সেখানে চিত্রাঙ্কন, গল্প লেখা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তবে যারা সুবিধাবঞ্চিত তাদের নিয়ে খুব বেশি আয়োজন নেই। শিশু বয়সে যাতে প্রান্তিক পর্যায়ের এই শিশুদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু ও তার চেতনা সম্পর্কে ধারণা তৈরি হয় সেই লক্ষ্যে তাদের ঢাকায় এনে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি জাদুঘরে নেওয়া হয়। এমন দিনটির কথা ওরা সারা জীবন মনে রাখবে। এ ধরনের কার্যক্রম আগামীতে গ্রহণ করা হবে।

টাঙ্গাইলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান কর্মসূচীর আওতায় নিয়ে এসেছে ফ্রেন্ডশিপ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানের নানা বয়সের একশ’ শিক্ষার্থীকে শনিবার তিনটি বাসে ঢাকায় আনা হয়। ওদের সঙ্গে এসেছে স্কুল শিক্ষক ও চিকিৎসক। তেজগাঁওয়ে ডিসির কার্যালয়ে নামার পরপরই ওদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। দুপুরে দেওয়া হয় ভালো খাবার। তাদের প্রত্যেককে দেওয়া হয় নতুন জামা। এরপর তাদের নিয়ে যাওয়া হয় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে। সেখান থেকে ওদের নেওয়া হয় শ্যামলী শিশু মেলায়। সেখানে যে যার মতো বিভিন্ন রাইডে ওঠে ওরা।

কল্পনা নামে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিশু জানাল, তার বাবা আলিম। তিনি কাঠের কাজ করেন। গাড়িতে উঠে ঢাকায় আসতে পেরে ওর ভালো লেগেছে। এত বড় বড় দালান কখনো দেখেনি বলেও সে জানায়।

তেজগাঁও ডিসির কার্যালয়ে ছোট্ট পরিসরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- পুলিশের হাইওয়ে রেঞ্জের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) কৃষ্ণপদ রায়, ডিআইজি (অপারেশন) আনোয়ার হোসেন, ডিআইজি (প্রশাসন) হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত ডিআইজি আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
[tabs]