Barisal Report .Com । বরিশাল রিপোর্ট .কম

ঢাকা, ২৪শে মে, ২০১৯ ইং


প্রকাশ : মে ৯, ২০১৯ , ৬:১৯ অপরাহ্ণ
বরিশালে গাঁজা দিয়ে স্বামী-স্ত্রীকে ফাঁসানোর অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক// টাকা হজম করতে না পেরে নিরপরাধীদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। প্রায় অর্ধলক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ওসি ফরহাদ বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই বলছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা মাদক না পেয়ে ঘরে থাকা প্রায় অর্ধলক্ষ টাকা নিয়ে চলে যায়। পরে টাকা চাইতে গেলে তাদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মাদক মামলা দায়ের করেন তারা। যদিও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ওসি ফরহাদ বলছেন তাদের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ মিথ্যা।

সূত্র জানায়, গত ৫ মে সকাল সাড়ে ৭টায় বরিশাল নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কালিজিরা বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শাহ আলমের ঘরে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ৫ সদস্যের একটি টিম। অভিযান চালিয়ে মাদক না পেলেও ঘরে রক্ষিত প্রায় অর্ধলক্ষ টাকা নিয়ে আসেন তারা। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে উপস্তিত থাকা দুই ব্যক্তির কাছ থেকে জোর করে স্বাক্ষী হিসেবে সাদা কাগজে স্বাক্ষর আনা হয়। এসময় শাহ আলম ও তার স্ত্রী-সন্তানরা উপস্থিত থাকলেও কাউকে আটক করা হয়নি। বরং তাদেরকে এ বিষয়ে মুখ না খোলার জন্য হুমকি দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন শাহ আলম ও তার স্ত্রী।

উপায়অন্তু না পেয়ে শাহ আলম ও তার স্ত্রী ডিবির এসআই ইউনুস ফরাজি ও এএসআই আবুল বাশারের মাধ্যমে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোঃ সালেহ উদ্দিনের কাছে গিয়ে ঘটনা খুলে বলেন। পরে সালেহ উদ্দিনের পরামর্শে শাহ আলমের স্ত্রী ও কালিজিরা বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক, ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ গাজিকে নিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অফিসে গিয়ে ওসি ফরহাদের কাছে টাকা ফেরত চাইলে তিনি বিভিন্ন ভাবে ভয় ভিতি দেখিয়ে তাদেরকে ফেরত পাঠান। এর পরেই শাহ আলম ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মাদক মামলা দায়ের করলে বিভিন্ন লোকের দারে দারে ঘুরতে শুরু করে তারা। কিন্তুমাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নাম শুনে কেউ এগিয়ে আসছেনা তাদের পাশে বলে জানান শাহ আলম ও তার স্ত্রী।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা জোর করে স্বাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর আনেন এমন একজন হলেন স্থানীয় একটি ভবনের নাইট গার্ড সচিব খান। বিষয়টি নিয়ে কথা হয় তার সাথে। তার কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন- আমার কাছ থেকে জোর করে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানিনা। তবে ঘটনাটি সাজানো বলে দাবী করেন তিনি।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে কালিজিরা বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ গাজী বলেন, বাজারের চায়ের দোকনদার শাহ আলমের বাসায় অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি টিম। এসময় শাহআলমের ঘরে মাদক জাতীয় কিছু পায় না তারা। কিন্তু শাহ আলমের ঘরে গাড়ি বিক্রির প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ডিবি ডিসির পরামর্শে শাহ আলমের স্ত্রীর সাথে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে টাকা ফেরত চাইতে গেলে বিভিন্ন ধরণের ভয়ভিতি দেখায় ওসি ফরহাদ ও এসআই দুলাল। এসময় শাহ আলমের স্ত্রীকে দেখে নেয়ার হুমকিও দেয়া হয়। তিনি আরও জানান টাকা না পেয়ে সেখান থেকে ফেরার পরেই জানতে পারে শাহ আলমের স্ত্রীরির বিরুদ্ধে ৫শ গ্রাম ও শাহ আলমের বিরুদ্ধে ১৫০ গ্রাম গাঁজার পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি এ প্রতিবেদকের কাছে ঘটনার প্রতিবাদ ও নিন্দাও জানান।

ঘটনার বিষয়ে জানতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ওসি ফরহাদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন- তাদের বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা। তবে অভিযানের বিষয়টি সত্য। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকেই গাজা পাওয়া যায় বলে দাবী করেন তিনি। তাহলে তখন তাদের আটক করা হয়নি কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- আপনাদের কাজ আপনারা করেন আমার কাজ আমি করি। ডিবির ডিসি আপানাদের ফোন দিয়েছিলো কিনা বা বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদকসহ শাহ আলমের স্ত্রী আপনাদের অফিসে গিয়েছিলো কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন- ডিবিরি ডিসি আমাকে ফোন করেন নি তবে অফিসের অন্য কাউকে ফোন করেছে কিনা সেটা আমার জানানেই। অপরদিকে বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক তার অফিসে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও শাহআলমের স্ত্রী তাদের অফিসে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

এ বিষয়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের ওসি ফরহাদের সাথে অভিযানে অংশ নেয়া এসআই দুলাল ঘটনার বিষয়ে ফোনে কোন কথা না বলে সামনা সামনি কথা বলার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি তার কাছে যাওয়ার জন্য এই প্রতিবেদককে অনুরোধ করেন।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশানার (ডিবি) মোঃ সালেহ উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন- আপনি (শনিবার) অফিসে আসেন। আপনার সাথে সামনা সামনি কথা বলি।

তবে ডিবির এএসআই আবুল বাশার বলেন- কালিজিরা বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শাহ আলম ও তার স্ত্রী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে ডিবির ডিসি স্যারের কাছে আসছিলো। বিষয়টি স্যার শুনেছেন এবং ওই অফিসে ফোনও দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে নাকি তাদের বিরুদ্ধে দুটি মাদকের মামলা দায়ের করা হয়েছে।’’

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
[tabs]