Barisal Report .Com । বরিশাল রিপোর্ট .কম

ঢাকা, ২০শে জুন, ২০১৯ ইং


প্রকাশ : এপ্রিল ১০, ২০১৯ , ৪:৫৭ অপরাহ্ণ
বরিশালে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজরীত হিমনীড়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দর্শনাথীদের ক্ষোভ

বরিশাল রিপোর্ট॥ মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজরীত নগরীর অন্যতম ঐতিহ্য ‘হিমনীড়’। বিরল প্রজাতির বিভিন্ন বৃক্ষশোভিত বিশাল এলাকাটির অন্যতম আকর্ষণ পদ্মপুকুর। স্থানীয় বা ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম দর্শনীয় স্থান এ হিমনীড়ে শুধু মালিকানা দাবির ভিত্তিতে জনসাধারণের প্রবেশাধিকার বন্ধ করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এ নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে নগরবাসী ও ভ্রমণপিপাসুদের মধ্যে।
নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যান সংলগ্ন রাজা বাহাদুর সড়কের পাশে প্রায় ছয় একর জমিতে হিমনীড়ের অবস্থান। বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সেখানে। কাঠের তৈরি আকর্ষণীয় দ্বিতল বাংলোর সামনের পুকুরে বছরের বারো মাস ফোটে পদ্ম ফুল।

পুকুরের চারপাশে অর্জুন, শ্বেতচন্দন, অশোক, অশ্বত্থ বৃক্ষ ছাড়াও রয়েছে কাঁঠালচাঁপা, গোলাপ, রাধাচূড়া, হাসনাহেনা, নয়নতারা, ডালিয়া, জিনিয়া ফুলসহ নানা প্রজাতির উদ্ভিদ। প্রতিদিন সহ¯্রাধিক মানুষ হিমনীড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে আসেন।

হিমনীড় ও পদ্মপুকুরের পাশাপাশি এখানে রয়েছে শিলানীড়, ছায়ানীড় ও চানবাংলো। সস্প্রতি সময়ে বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তারা পুরো এলাকাটিতে জনসাধারণের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন। ফলে প্রতিনিয়ত এখানে এসে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের হাতে নাজেহাল হতে হচ্ছে দর্শনার্থীদের।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ব্রিটিশ শাসনামলে ইন্ডিয়ান জেনারেল নেভিগেশন (আইজিএন) এবং রিভার স্টিম নেভিগেশন (আরএসএম) কোম্পানি তাদের কার্যালয় হিসেবে রাজা বাহাদুর সড়কে হিমনীড় প্রতিষ্ঠা করে। ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের অবকাশ যাপনে কাঠ ও টালির চালা দিয়ে দ্বিতল বাংলো স্থাপন করা হয়। বাংলোর সামনে খনন করা বিশাল পুকুরের চারপাশে অর্জুন, শ্বেতচন্দন, অশোক, অশ্বত্থ বৃক্ষ ছাড়াও রয়েছে কাঁঠালচাঁপা, গোলাপ, রাধাচূড়া, হাসনাহেনা, নয়নতারা, ডালিয়া, জিনিয়া ফুলসহ নানা প্রজাতির উদ্ভিদ। ঐতিহ্যবাহী হিমনীড় ও পদ্মপুকুরের পাশাপাশি এখানকার চানবাংলোয় রয়েছে ভিভিআইপি’দের বিশ্রামাগার। শিলানীড় ও ছায়ানীড়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বসবাস করছেন।

ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার কিশোর কর্মকার বলেন, গত শুক্রবার বিকেলে হিমনীড়ে গেলে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দোহাই দিয়ে প্রধান ফটকে তাকে আটকে দেন। প্রতিবাদ করায় আনসার সদস্যরা তার সাথে দুর্ব্যবহার করেন। তিনি আরও বলেন, ছুটিরদিন হওয়ায় সেদিন অনেক মানুষ হিমনীড়ে গেলেও তাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

অভিযোগের সত্যতা জানতে হিমনীড়ে গেলে এক আনসার সদস্য বাঁধা দিয়ে বলেন, যখন-তখন ভেতরে ঢোকার অনুমতি নেই।

কয়েক মাস আগে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন-অর রশিদ বলেন, হিমনীড়ে অফিস চলাকালীন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বহিরাগতরা প্রবেশ করে পরিবেশ বিনষ্ট করে। যে কারণে প্রবেশ ঠেকাতে আনসার নিয়োগ করা হয়েছে। আনসাররা যাচাই-বাছাই করে প্রবেশ করতে দিচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএ’র এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বরিশাল চারুকলার সংগঠক সুশান্ত ঘোষ বলেন, হিমনীড়ের মালিক বিআইডব্লিউটিএ হলেও এটি এখন নগরীর অন্যতম প্রধান বিনোদন কেন্দ্র।

এখানকার পদ্মপুকুরের শোভার খ্যাতি সারাদেশে ছড়িয়ে পরেছে। মুক্তিযুদ্ধকালীন ৯ নম্বর সেক্টর কমান্ডার মেজর এমএ জলিল এখানকার বাংলোতে দপ্তর স্থাপন করেছিলেন। ফলে এটি এখন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সাথেও জড়িত। তিনি আরও বলেন, প্রখ্যাত প্রকৃতিপ্রেমিক দ্বিজেন শর্মা কয়েক বছর আগে হিমনীড়ে শিশুদের জন্য ‘এসো গাছ চিনি’ কর্মসূচির উদ্বোধণ করেছেন। এটির দ্বার বন্ধ করে বিআইডব্লিউটি এ জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের বরিশালের সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, বিআইডব্লিউটিএ তাদের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে কঠোর আন্দোলন করা হবে।

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
[tabs]