Barisal Report .Com । বরিশাল রিপোর্ট .কম

ঢাকা, ২১শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং


প্রকাশ : এপ্রিল ১, ২০১৯ , ৬:০৭ অপরাহ্ণ
বরিশালে ১৫টি পরিবারের মানবেতর জীবনযাপন

*ভূমিদস্যু রাজ্জাক বাহিনীর আগ্রাসন

বরিশাল  রিপোর্ট॥ জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের চিহ্নিত ভূমিদস্যু রাজ্জাক হাওলাদারের নেতৃত্বাধীন “রাজ্জাক বাহিনী”র আগ্রাসী থাবায় পৈত্রিকসূত্রে পাওয়ায় একমাত্র সহায় সম্পত্তি হারিয়ে সর্বশান্ত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ১৫টি নিরিহ পরিবার।
গত রবিবার ওই বাহিনীর সদস্যরা এক সংখ্যালঘু পরিবারের সম্পত্তি জবরদখল করে পাকা ভবন নির্মান করছিলেন।

এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের পর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভূমিদস্যুদের অবৈধভাবে দখলকৃত জমির নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে ভূমিদস্যু ওই চক্রের সদস্যরা সংখ্যালঘু ওই পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি অব্যাহত রেখেছে।

ভূক্তভোগীদের অভিযোগে জানা গেছে, দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের কোষাবড় গ্রামের মৃত জোনাব আলী হাওলাদারের পুত্র ও কামারখালী হযরত আলী ডিগ্রী কলেজের অফিস সহকারী এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় চিহ্নিত রাজাকার গনি হাওলাদারের আপন ভাই রাজ্জাক হাওলাদার। দীর্ঘদিন থেকে তার (রাজ্জাক) ভূমিসস্যুতার কারণে ওই গ্রামের ১৫টি পরিবার নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সূত্রমতে, ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে জ্ঞান না থাকা সাধারণ মানুষের জমির রেকর্ড, ডিক্রী, খাজনা ইত্যাদি করে দেয়ার মিথ্যে প্রলোভন দেখিয়ে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে রাজ্জাক নিজ পরিবারের সদস্য আরিফুর রহমান ও আবুল কালাম আজাদ শামিমকে নিয়ে নিরবে নিজেদের নামে জমি লিখিয়ে নিয়ে সুযোগ বুঝে অসহায় পরিবারের সহয় সম্পত্তি জবর দখল নিয়েছেন। ভূমিদস্যু রাজ্জাকের খপ্পরে পরে ইতোমধ্যে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া সহায় সম্পত্তি হারিয়ে সর্বশান্ত হয়েছেন একই গ্রামের অটোচালক জাকির হোসেন, রশিদ হাওলাদার, দেলোয়ার হোসেন, আব্দুর রহমান, এছাহাকসহ প্রায় ১৫টি পরিবার। সর্বশেষ রাতের আধারে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পিতৃ-মাতৃহীন এসএন পলাশ ও প্রশান্ত দাসের ২৬ শতক জমি দখল করে পাকা ভবন নির্মান কাজ শুরু করেন রাজ্জাক ও তার সহযোগিরা।

সূত্রে আরও জানা গেছে, এসএন পলাশ গণমাধ্যমে কাজ করার সুবাধে বরিশাল নগরীতে বসবাস করছেন এবং তার সহদর প্রশান্ত ঢাকাতে পড়াশুনা করেন। এ সুযোগে রাজ্জাক তার সহযোগিদের নিয়ে পলাশ গংদের জমি অবৈধভাবে দখল করে পাকা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে পলাশ সরেজমিনে গিয়ে সত্যতা দেখতে পেয়ে গত ২৮ মার্চ বরিশাল অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে নিষেজ্ঞা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে স্থানীয় থানা পুলিশকে ভূমিদস্যু রাজ্জাকের দখল করা সম্পত্তির নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।
ভূমিদস্যু রাজ্জাক বাহিনীর রোষানলের শিকার সাংবাদিক এসএ পলাশ সঠিক তদন্তের মাধ্যমে রাজ্জাক ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মিজান বলেন, সরকারী জমি থেকে শুরু করে এলাকার সংখ্যালঘু পরিবারসহ গ্রামের অসহায় মানুষের জমি জালজালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাত করে রাজ্জাক আমাদের এলাকার একজন মুর্তিমান আতংক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভূক্তভোগি পরিবারগুলো ভূমিদস্যু রাজ্জাকের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও কোন সুফল পাননি।

ভূমিদস্যুতার অভিযোগ অস্বীকার করে রাজ্জাক হাওলাদার বলেন, আমার প্রায় ১০/১২ কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে কিন্তু খাওয়ার মানুষ নেই। দুটি সন্তান রয়েছে তাও একযুগ যাবত অসুস্থ্য হয়ে বিছানায় শষ্যাশয়ী। আমার অঢেল সম্পত্তি দেখে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি লোভ সামলাতে না পেরে মিথ্যাচার করছে। এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি মাকসুদুজ্জামান বলেন, জমিজমার বিষয়টি আদালতের। তার পরেও কেউ যদি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
[tabs]