Barisal Report .Com । বরিশাল রিপোর্ট .কম

ঢাকা, ২৪শে মে, ২০১৯ ইং


প্রকাশ : এপ্রিল ১৮, ২০১৯ , ১১:০২ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে পাকিস্তানি কিশোরীকে ‘ধর্ষণ’

অনলাইন ডেস্ক//  বাংলাদেশে এক পাকিস্তানি কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণের শিকার মেয়েটি করাচীর একটি সরকারি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী। ওই ছাত্রী মায়ের সাথে বাংলাদেশে বেড়াতে এসে ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ উঠে। এ অভিযোগে থানায় একটি মামলা করেন ওই কিশোরীর মা।

মামলায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে গোপালপুর থানার ওসি হাসান আল মামুন জানান, উপজেলার উত্তর গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ুন কবীর আনুমানিক পঁচিশ বছর আগে পাকিস্তানের নিউ করাচীতে গিয়ে বসবাস শুরু করেন। সেখানে পাকিস্তানি নাগরিক নীলুফার বেগমকে বিয়ে করেন এবং সেখানেই ব্যবসা শুরু করেন। পাঁচ মাস আগে নীলুফার বেগম ছয় মাসের ভিসায় ১৭ বছরের মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশে স্বামীর বাড়ি বেড়াতে আসেন। ওঠেন উত্তর গোপালপুর গ্রামের ভাসুর আব্দুল ওয়াদুদের বাড়িতে। সেখানে ওঠার পর থেকেই আরেক ভাসুর আবুল হোসেনের ছেলে আল আমিন ওই কিশোরীকে উত্যক্ত করতে থাকে। বেশ কয়েকবার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এ ঘটনায় পারিবারিকভাবে বিষয়টি ফয়সালার চেষ্টা হয়।

এদিকে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় মা-মেয়ের পাকিস্তানে ফেরত যাবার খবর শুনে আল আমীন ক্ষুব্ধ হয়। গত ১৬ এপ্রিল রাতে একদল সন্ত্রাসীর সহযোগিতায় কিশোরীকে কাকার বাড়ি থেকে কৌশলে অপহরণ করে। পরে তাকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়।

এমতাবস্থায় গত ১৭ এপ্রিল আল আমিনসহ তিনজনকে আসামি করে নীলুফার বেগম গোপালপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। গোপালপুর থানা পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আজ বৃহস্পতিবার ভোরে জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার মহিষাকান্দি মোড়ের এক বাসা থেকে বন্দীবস্থায় ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ।

ওই কিশোরীর মা নীলুফার বেগম জানান, তার মেয়ে নিউ করাচীর সরকারি সাদিকাটুল হাইস্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ে। তিনি ও তার মেয়ে বাংলা ঠিকমতো বলতে পারেন না। বাবার দেশ সখ করে দেখতে এসে নিজের পরিজনের হাতেই সর্বনাশের শিকার হলো। নির্যাতনে তার মেয়ে মুষড়ে পড়েছেন বলে জানান তিনি। তিনি এর কঠিন শাস্তি দাবি করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা আসলাম হোসেন জানান, টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ওই কিশোরীর মেডিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু বাংলা বলতে না পারায় এবং দোভাষী না পাওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার আদালতে কিশোরীর জবানবন্দী নেওয়া যায়নি। আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
[tabs]