Barisal Report .Com । বরিশাল রিপোর্ট .কম

ঢাকা, ২৪শে মে, ২০১৯ ইং


প্রকাশ : এপ্রিল ১৮, ২০১৯ , ১০:৫১ অপরাহ্ণ
মাদারীপুরে ৩০ বছরের সংসার, অতঃপর…

অনলাইন ডেস্ক// মাদারীপুরে পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় সেলিনা আক্তার (৫০) নামে এক গৃহবধূকে স্বামী হারুন-অর-রশীদ শ্বাসরোধে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার ভোরে সদর উপজেলার পৌর শহরের দক্ষিণ থানতলী এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে স্বামীকে আটক করেছে সদর থানা পুলিশ।

নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীরা জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে জেলার শিবচর উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের মানিক মাস্টারেরকান্দি গ্রামের জমির আলী উকিলের মেয়ে সেলিনা আক্তারের বিয়ে হয় সদর উপজেলার দুধখালি ইউনিয়নের বড়কান্দি গ্রামের আবু বকর মুন্সীর ছেলে হারুন-অর-রশীদের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকে সেলিনাকে অকারণেই মারধর করত স্বামী হারুন। তাদের সংসারে এক ছেলে ও মেয়ে রয়েছে।

দুই বছর ধরে অপর একটি মেয়ের সঙ্গে হারুন পরকীয়ায় জড়িয়ে পরে। এতে বাধা দিলে সেলিনার ওপর নির্যাতন আরও বেড়ে যেত। বৃহস্পতিবার ভোরে এরই ধারাবাহিকতায় সেলিনাকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে নিহতের লাশ সদর হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায় স্বামী হারুন-অর-রশীদ।

খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর মর্গে প্রেরণ করেন।

নিহত সেলিনার ছোট ভাই মাজারুল ইসলাম জানান, ‘আমার বোনের সঙ্গে তার স্বামীর প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। তার স্বামী পরকীয়ার সঙ্গে জড়িত ছিল। আমরা কয়েকবার পারিবারিকভাবে বসেও বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু তার স্বামীর কোনো পরিবর্তন হয়নি। এই কারণে আমার বোন তাকে বাধা দেয়ায় হত্যা করে প্রথমে একটি আমগাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। পরে সে নিজেই মাদারীপুর সদর হাসপাতালে লাশ রেখে পালিয়ে যায়। আমার বোনের মাথা, কপাল ও গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এটা হত্যা নয়, পুরোপুরি পরিকল্পিত হত্যা। আমরা এই নরপশুর বিচার চাই।’

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শশাঙ্ক চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘সকালে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে একজন নারীকে আনা হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে চেকআপ করে দেখে তিনি মৃত। পরবর্তীতে আমরা থানার ওসিকে বিষয়টি অবহিত করি এবং পুলিশ এসে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য বললে আমরা ময়নাতদন্ত করি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত কিছুই বলতে পারছি না।’

অভিযোগের বিষয়ে মোবাইল ফোনে গৃহবধূর স্বামী হারুন-আর-রশিদ বলেন, ‘এলাকার মানুষের সঙ্গে আমাদের বিরোধ ছিল। ভোরে আমি নামাজ পড়তে গেলে এলাকার মানুষ আমার স্ত্রীকে মেরে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে।’

এ ব্যাপারে মাদারীপুর সদর থানার এসআই মজিবর রহমান জানান, ‘লাশটি সদর হাসপাতালে ছিল। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খবর দিলে লাশটি আমরা ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠাই। প্রাথমিক সুরতহাল দেখে এটাকে স্বাভাবিক আত্মহত্যা মনে হয়নি। পরে নিহতের স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে হারুন-অর-রশীদকে আটক করা হয়েছে।’

মাদারীপুর সদর থানার ওসি কামরুল হাসান বলেন, ‘হারুনের বসতঘরের পেছনে ছোট একটি আমগাছের ডালের সঙ্গে একটি রশি ঝুলন্ত অবস্থায় পাই। পরে রশিটি পুলিশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।’

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
[tabs]