Barisal Report .Com । বরিশাল রিপোর্ট .কম

ঢাকা, ২৩শে মার্চ, ২০১৯ ইং


প্রকাশ : মার্চ ১৪, ২০১৯ , ৭:২৩ অপরাহ্ণ
সুগন্ধা নদীর রাক্ষুসী থাবায় নদীগর্ভে হাসপাতালকলেজে ও প্রধান সড়ক

বরিশাল রিপোর্ট॥ সুগন্ধা নদীর রাক্ষুসী থাবায় আকস্মিক ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সরকারী আবুল কালাম ডিগ্রী কলেজের প্রধান সড়কটি। উপজেলার নতুন হাট-রাকুদিয়া সড়কে কলেজের সামনের প্রায় দেড়শ’ ফুট কার্পেটিং সড়ক বুধবার রাতে দেবে নদীবক্ষে আছড়ে পরেছে। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে সড়টিতে আকস্মিক ভাঙন দেখা দেয়।

ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সরকারী আবুল কালাম ডিগ্রী কলেজেসহ দেহেরগতি ও কেদারপুর ইউনিয়নের সাথে উপজেলা সদরের সড়কপথে যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে গেছে। প্রধান সড়কটি নদীতে ভেঙে পরায় চরম বিপাকে পড়েছেন দুই ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। চলতি শুকনো মৌসুমে আকস্মিক নদী ভাঙনে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

অসময়ের এমন ভাঙন দেখে বরিশালের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নিজেও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সরকারী আবুল কালাম ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক নুরুন্নবী রাসেল জানান, মঙ্গলবার বিকেলে কলেজের অদূরের ওই কার্পেটিং সড়কে ভাঙন দেখা দেয়। পরবর্তীতে বুধবার রাতে সড়কের বিশাল অংশ সুগন্ধা নদীতে ভেঙে পরে। তিনি আরও জানান, একমাত্র সড়কটি দিয়েই আবুল কালাম ডিগ্রী কলেজের সহ¯্রাধিক শিক্ষার্থী ছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগী-ডাক্তারসহ দুই ইউনিয়নের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ চলাচল করে থাকেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুর রহমান হাওলাদার বলেন, নতুন হাট-রাকুদিয়া সড়কের কলেজ সংলগ্ন প্রায় পাঁচশ’ ফুট এলাকা দীর্ঘদিন থেকে ভাঙন ঝুঁকির মধ্যেছিলো। পানি উন্নয়ন বোর্ড ওই ভাঙন প্রতিরোধে কয়েক দফায় নদীতে জিও ব্যাগ ফেললেও তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

বর্তমানে ওই জিও ব্যাগসহ কার্পেটিং রাস্তার প্রায় দেড়শ’ ফুট নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

এখনও বাকি রাস্তার মধ্যে প্রায় ৮০ ফুট দৈর্ঘ্যরে আরেকটি বিশাল ফাঁটল রয়েছে। যা যেকোনো মুহুর্তে নদীতে ভেঙে পরতে পারে। তিনি আরও জানান, জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প সড়ক নির্মাণ ও ভাঙনরোধ করা না গেলে কলেজের আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবু সাঈদ বলেন, অসময়ে এমন ভাঙনে আমরা বিস্মিত। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ভাঙনরোধে দ্রুত আপদকালীন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সরকারী আবুল কালাম ডিগ্রী কলেজ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জমিদাতা ও পৃষ্ঠপোষক সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলা হয়েছে।

আপাতত জিও ব্যাগ এবং পার্কোপাইন দিয়ে আপদকালীন প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা হবে।

তবে সুগন্ধা নদী শাসনের মাধ্যমে এর গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে নদী ভাঙনের স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব নয়। আর এজন্য মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
[tabs]
এই পাতার আরো খবর