মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১, ১২:৫৭ অপরাহ্ন

এমবিবিএস ভর্তি সুযোগ পেলেন আদিবাসবী রাখাইন ম্যাচোখেন 

এমবিবিএস ভর্তি সুযোগ পেলেন আদিবাসবী রাখাইন ম্যাচোখেন 

জাকারিয়া জাহিদ,কুয়াকাটা প্রতিনিধি:এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ পেলেন আদিবাসী রাখাইন ছাত্রী ম্যাচোখেন। তিনি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকার বৌলতলিপাড়ায় শৈশব ও কিশোর বয়সে সংগ্রাম করে বেড়ে উঠেছেন। পিইসি পাশের পর বরিশাল নগরীর বেপ্টিস্ট মিশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি ও বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে। এবার মেডিকেলের ভর্তি যুদ্ধে ম্যাচোখেন জয়ী হয়। সদ্য ঘোষিত মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে ম্যাচোখেন কিশোরগঞ্জ জেলার শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজে সুযোগ পেয়েছে।

 

অদম্য রাখাইন ছাত্রী ম্যাচোখেন বলেন, বৌলতলিপাড়া থেকে ৩ কিলোমিটার দুরে বিল পেড়িয়ে খেচাওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিকের শিক্ষা নিতে যেতে হতো। বষার্র ৬ মাস ও দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় স্কুলেই যেতে পাড়তে না। তার বাবা রাখাইন কৃষক উচোথান, মা গৃহিনী খেওয়ান। ম্যাচোখেনের প্রাথমিক শিক্ষায় অনুপ্রেরনা যুগিয়েছেন প্রায়ত দাদা থানচাচিং তালুকদার। যখন স্কুলে যেতে পাড়তেন না- দাদাই ঘরে বসে পড়াতেন। যে কারণে প্রাথমিক সমাপনীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে আত্নবিশ্বাস বাড়ে তার।

 

এরপর ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে বরিশাল নগরীর বেপ্টিস্ট মিশন বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। বাবা-মা ছেড়ে হোস্টেলে থেকে লেখাপড়া করতে হতো অনেক সংগ্রাম করে। রাতে ঘুমাতে পাড়তেন না ম্যাচোখেন। মা খেওয়ানের ও ঘুম হত না মেয়েকে দুরে। মেয়ের প্রিয় খাবারগুলো রান্না হলে খেতে পারতেন না বাবা- মা। বেপ্টিস্ট মিশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি ও এসএসসিতে জিপিএ-৫ পায় ম্যাচোখেন। একইভাবে চলতি সালে মডেল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচএসসি জিপিএ-৫ পেয়ে পাশ করেন। স্কুল শিক্ষক এবং কলেজ শিক্ষকদের সহযোগিতা ও আন্তরিকতার কথা অকপটে স্বীকার করেন ম্যাচোখেন।

 

ম্যাচোখেন জানিয়েছেন,তার ইচ্ছে অনাগ্রসর রাখাইন জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা দিবেন। কেননা রাখাইনরা বাংলায় ততোটা দক্ষ নন।

বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজ এর রসায়ন বিভাগের প্রভাষক শিখা রানী বলেন, ম্যাচোখেন নিয়মিত ক্লাসে আসতো। ভীষন মেধাবী মেয়েটি। পড়াশুনায় আন্তরিকতার পাশাপাশি ওই শিক্ষার্থী ভদ্র ও বিনয়ী ছিল। অনগ্রসর রাখাইন জনগোষ্ঠীর প্রতন্ত অঞ্চলে বেড়ে ওঠা এমন একটি ছাত্রীর মেডিকেলে সুযোগ পাওয়া সত্যিই চ্যালেঞ্জের। ম্যাচোখেন একজন ভাল মানুষ- তাই চিকিৎসায় মানব সেবায় ব্রত হয়ে কাজ করবেন বলে ওই শিক্ষক দাবী করেছেন।

 

বাবা রাখাইন কৃষক উচোথান বলেন, সংসারের অভাব অনটন সত্বেও মেয়ের লেখাপড়ার ব্যয়ভার মেটাতে এতোটুকো কস্ট বুঝতে দিতেন না। মেয়ের আগ্রহ ও স্বপ্ন যাতে বিনষ্ট না হয় তাই তার মা অবসরে টেইলারিংথর কাজ করে এবং তিনি নিজে আগাম সবজি চাষ করে আয় বাড়াতেন। ছোট বেলা থেকেই লেখাপড়ায় অদম্য ছিল তার কন্যা। মেডিকেলে ভর্তি সুযোগ পাওয়ায় তিনি তার কন্যাকে কলাপাড়া অনগ্রসর রাখাইন জনগোষ্ঠীর সেবায় নিয়োজিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।

 

এ বিষয়ে রাখাইন উন্নয়ন কর্মী প্রকৌশলী ম্যাথুজ বলেন. রাখাইন সম্প্রদায় থেকে ম্যাচোখেন দ্বিতীয়বারের মতো মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। এর আগে ১৯৭২ সালে তালতলী উপজেলার আগাঠাকুরপাড়া থেকে এক ছাত্রী মেডিকেলে চান্স পেয়ে ডাক্তার হয়েছিল। ম্যাথুজ আরও বলেন. ম্যাচোখেন আমাদের সম্প্রদায়ের সম্পদ।এ প্রজন্মের রাখাইন শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা যোগাবেন ম্যাচোখেন । ##

 

Please Share This Post in Your Social Media




পুরাতন খবর

DEVELOP BY SJ WEB HOST BD
Design By Rana