মঙ্গলবার, ২২ Jun ২০২১, ০৪:৩০ অপরাহ্ন

ঈদের ডরে বাড়ি যামু না

ঈদের ডরে বাড়ি যামু না

জিয়াউল করিম মিনার: ‘১০ বছর বয়সী আন্নাফি নামে এউক্কা পোলা আছে মোর। ঈদ আইলেই তো প্রেত্যেক বছর টাহা পাডাই। তয় এবারে তো আর বোনাস পাই নাই। পোলায় ফোন দিয়া জিগায় মোরে নতুন জামা কিন্না দেবা না? সবাই দেহি নতুন জামা কেনে, মুই কিনমু কবে? যে টাহা বেতন পাইছি হেইয়া দিয়া অনেক কষ্ট হইরা কিছু টাহা বাড়ি পাডাইছি। তয় হেয়া দিয়া জামা কাপড় কেনা যাইবে না। ঈদের ভয়ে এবার মুই নিজেও বাড়ি যামু না। যদি লঞ্চ চললে মোগো এক্সট্রা ইনকাম থাহে। কিন্তু এবার হেইয়াও নাই’।

অনেকটা ভারাক্রান্ত কণ্ঠে এমনটাই বলছিলেন, বরিশাল আগৈলঝাড়া উপজেলার পয়সারহাট এলাকার বাসিন্দা বরিশাল-ঢাকা রুটের মানামী লঞ্চের ডেক ক্রু মো. কাওছার। তিনি বলেন, ‘আমাগো লঞ্চে মোট ৭০ জন স্টাফ আছে। মালিক বেতন দেছে, তয় বোনাস দেয় নাই। বেতন পাইতেও দেরি হইছে।

একই কথা বলেন ঢাকা-বরিশাল নৌরুটের পারাবাত-১০ লঞ্চের সুকানি শাহাদাৎ হোসেন। তার বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া এলাকায়। সারাদিন লুডু আর আড্ডা দিয়েই বর্তমানে সময় কাটে তার।

তিনি জানান,‘বেতন এখনও পাই নাই । মনে হয় পামুও না। সেই লকডাউন শুরুর আগে বাড়ি কিছু ধান কিন্না রাইখা আইছিলাম। তা দিয়েই এখন আমার বউ চলতে আছে। এবার আমাদের ঈদ নাই। এখন লঞ্চেই থাকতে হয়। ডেইলি আলু ভর্তা, ভাত আর ডাইল দিয়াই চলে আমাগো খাওন। বাড়ি যাওয়ারও সুযোগ নাই। কী করমু কিছু বোঝতে আছি না। আমরাতো লঞ্চে খাইতে পারি, যারা বাড়ি গেছে তারা কী অবস্থায় আছে তা আল্লাই ভালো জানে।’

আলাপকালে তিনি আরো বলেন, ‘এই লঞ্চে মোট ৪০ জন স্টাফ আছে। লকডাউন শুরুর পর লঞ্চ বরিশাল ঘাটেই আছে। নিয়ম হিসেবে এখন লঞ্চে আমরা ১৮ জন আছি। মালিক তিন বেলা খাবার দেয়। তবে মাসের ১২ তারিখ হয়ে গেলেও বেতন পাই নাই। আর বোনাস তো দূরের কথা।

‘নিজের কাছেও এহন টাকা নাই বাইরে চলার জন্য। বাড়িতেও কিছু পাঠাইতে পারি নাই। তবে অনেকের কাছে শুনছি সরকার নাকি সহায়তা দিছে। তবে কাদের দেছে তা জানি না। আমরা তো লঞ্চেই থাকি, আমরা তো কিছুই পাই নাই। পকেটে টাকা নাই,তাই এবার আমাগো ঈদও নাই। তবে যদি লঞ্চ চলতো তাহলে আমাদের সমস্যা হতো না।’

পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি ও ভোলার লঞ্চ শ্রমিকদেরও অবস্থা একই। নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের বরিশাল বিভাগীয় সভাপতি আবুল হাশেম বলেন, ‘পাঁচ’শ শ্রমিকের তালিকা দিছিলাম। তয় ডিসি অফিস দিয়া ৫০ জনরে দেছে। শুনছি ভুয়া শ্রমিকরা সহায়তা নেছে। তয় আসল শ্রমিকরা কিছুই পায় নাই। হেরা খুব কষ্টে আছে।

‘বাস তো চলে, কিন্ত লঞ্চ তো চলে না। করোনা মনে হয় খালি লঞ্চেই ছড়ায়। বন্ধ লঞ্চের শ্রমিকরা অনেক কষ্টে আছে। তাগো বিষয়টা সরকারের বিবেচনা করা উচিৎ। অন্তত ঈদ উপলক্ষে অগো সহায়তা পাওয়া উচিত।’

লঞ্চ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি ও সুন্দরবন নেভিগেশন কোম্পানির চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লঞ্চ শ্রমিকদের একটা তালিকা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা দেয়া হবে। তাছাড়া লোকসানের মধ্যেও মালিকরা সহায়তা করার চেষ্টা করছে শ্রমিকদের।

বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার বলেন, ‘যে লঞ্চ শ্রমিকরা সহায়তা পায়নি বলে জানিয়েছে তারা মিথ্যা কথা বলছে। তালিকা করে আট’শ লঞ্চ ও পরিবহন শ্রমিককে সহায়তা দেয়া হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু করার ততটুকু করেছি।’

Please Share This Post in Your Social Media




পুরাতন খবর

DEVELOP BY SJ WEB HOST BD
Design By Rana