শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন

বরিশালে মামলার এজাহার বলছে বিবাহিত, কিন্তু ছাত্রলীগ নেতার দাবি তিনি অবিবাহিত

বরিশালে মামলার এজাহার বলছে বিবাহিত, কিন্তু ছাত্রলীগ নেতার দাবি তিনি অবিবাহিত

শামীম আহমেদঃ বরিশাল সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও তার সহযোগীদের হামলায় ও হাতুড়ি পেটায় ব্যবসায়ী রুহুল কুদ্দুস রাহাত (৩০) গুরুত্বর আহত হওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল মেট্রোপলিটনের বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন তালুকদার করে জানান, আহত ব্যবসায়ীর পিতা ও সদর উপজেলার টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নের নরকাঠি এলাকার বাসিন্দা গোলাম কবির বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় বরিশাল সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আশিকুর রহমান সুজন তার ছোট ভাই স্বপন হাওলাদারসহ ৫ জনকে নামধারী ও ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে।এদিকে মামলার এজাহারে সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আশিকুর রহমান সুজনের শ্যালকের নাম উল্লেখ করার মধ্য দিয়ে তাকে বিবাহিত বলা হলেও, সুজন দাবি করেছেন তিনি অবিবাহিত।

যা নিয়ে সুজনের নিজ এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।সোমবার (১৭ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটনের বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন তালুকদার।

মামলার এজাহার সূত্রে জানাগেছে, বাদীর ছেলে ও আহত রুহুল কুদ্দুস রাহাত ভোলা জেলা সদরের বাংলাবাজার এলাকায় ভেকু’র ব্যবসা করেন।মামলার ১ নম্বর আসামী ছাত্রলীগ নেতা মোঃ আশিকুর রহমান সুজন আহত রাহাতের বন্ধু।

আর সুজনের মাধ্যমেই তার শ্যালক তুহিনের সাথে রাহাতের পরিচয় হয় এবং এর সূত্র ধরেই ব্যবসার জন্য ভোলার বাংলাবাজার এলাকায় রাহাতের কাছে যান তুহিন।

পরবর্তীতে তুহিন মোবাইল ব্যবসার ছলে স্থানীয় মোবাইল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আনুমানিক ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা রাহাতের কাছে যান এবং তার ভ্যাকু আটকে রাখে। বিষয়টি মামলার ১ নম্বর আসামী সুজনকে জানিয়ে সমাধানের জন্য বলেন।

এতে ওই ছাত্রলীগ নেতা রাহাতের ওপর ক্ষিপ্ত হয় এবং ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন।পরবর্তীতে রাহাত ঈদের সময় বাড়িতে আসলে, বিষয়টি জানতে পেরে ছাত্রলীগ নেতা সুজন শনিবার (১৫ মে) বিকেলে ২০-২৫ কে নিয়ে রামদা, লোহার রড, হাতুড়ি, লাঠি-সোটা নিয়ে রাহাতের বাড়িতে হামলা করে ভাংচুর চালায়।

ওইসময় বাদীর স্ত্রী, কন্যা ও ছেলের বউ বাধা দিতে গেলে, ছাত্রলীগ নেতা সুজন তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শ্লীলতাহানি করে।পরে সেখান থেকে হামলাকারীরা মোল্লাবাড়ি স্টেশনে গিয়ে লিটন দাসের একটি ইলেকট্রিক দোকানে ভাংচুর করে ও লুটতরাজ চালায়। পরবর্তীতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে লিটনের দোকানের সামনে ব্যবসায়ী রাহাত যান। সেখানে ছাত্রলীগের নেতা সুজনের নির্দেশে রাহাতের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

হামলার সময় ছাত্রলীগ নেতা ব্যবসায়ী রাহাতের শরীরে পরিহিতো শার্টের কলার ধরে রাখলে, মামলার ২ নম্বর আসামী তুহিনের ছোট ভাই শুভ হাতুড়ি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে রাহাতের মাথায় আঘাত করে। এসময় স্খানীয়রা এগিয়ে আসলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। পরে থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

এদিকে ব্যবসায়ী রুহুল কুদ্দুস রাহাতকে শনিবার দিবাগত রাতেই বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল নিউরোলজি সাইন্স এন্ড টেকনোলজি প্রেরণ করা হয়েছে।অপরদিকে এ ঘটনায় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও মামলার প্রধান আসামী মোঃ আশিকুর রহমান সুজন মোবাইলে দাবি করেছেন রাহাত ও তার স্বজনরা মিথ্যাচার করছে।

তিনি কোন বিবাহই করেননি, তাহলে শ্যালক হওয়ার প্রশ্নই নেই।তিনি বলেন, রাহাতের কাছে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা পায় তুহিন। তার ছোটভাই শুভ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে বিষয়টি আমাকে জানায়। রাহাত আমার বন্ধু ও একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় তার মাকে বিষয়টি বলি। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকে নানান অপপ্রচার চালায়। অপ্রপচার বন্ধ করে যে যার মতো থাকার জন্য রাহাতের সাথে ফোনেও কথা বলি।

কিন্তু সে তার লোকজন নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় আমার ওপর হামলা চালায়। তখন নিজেদের হামলাতেই কোনভাবে আহত হয়েছেন সে। কিন্তু আমি কোন হামলা চালাইনি। ঘটনাস্থলে আমার মোটরসাইকেল ও অপর একটি মোটরসাইকেলে মাত্র ৫ জন ছিলাম। তবে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ধলু মোল্লা জানান, লিটনের দোকানে ফেসবুকে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ তুলে যখন হামলা চালানো হয় তখন ১৫-২০ জন যুবক তাতে জড়িত ছিলো। যাদের স্থানীয়রা চিনতে না পারলেও সুজন এসে তাদের সরিয়ে নিয়ে যায়।

এরপর রাহাতের ওপর হামলার সময়ও ওই যুবকরাই উপস্থিত ছিলো।এদিকে এ ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত আসামী রবিন ও ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে মেহেদী হাসান নামে দুজনকে আটক না হয়েছে। পাশাপাশি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটনের বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন তালুকদার।

Please Share This Post in Your Social Media




পুরাতন খবর

DEVELOP BY SJ WEB HOST BD
Design By Rana