মঙ্গলবার, ২২ Jun ২০২১, ০৩:৫৭ অপরাহ্ন

কুয়াকাটায় ইয়াস’র প্রভাবে সমুদ্র গর্ভে বিলীন হলো কয়েক শত দোকান।

কুয়াকাটায় ইয়াস’র প্রভাবে সমুদ্র গর্ভে বিলীন হলো কয়েক শত দোকান।

জাকারিয়া জাহিদ,কুয়াকাটা প্রতিনিধিঃ ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার জোয়ারে সমুদ্রের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কলাপাড়া উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ইতিমধ্যে কুয়াকাটা সৈকত এলাকার জাতীয় উদ্যানের শতাধিক গাছ উপড়ে পড়েছে।

সমুদ্র উপকূলীয় এলাকা জোয়ারের পানিতে তলিয়ে আছে। মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে কুয়াকাটার ৪৮ নম্বর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের মাঝিবাড়ি পয়েন্ট ও পশ্চিম খাজুরা এলাকা।

এখানকার বাঁধের বাইরের পাশের ঢালে যে সিমেন্টের ব্লকগুলো ফেলা হয়েছিল, তা পুরোনো হয়ে যাওয়ায় পানির চাপে ধসে পড়ছে, এবং অনেক দিন বেরিবাদের নতুন মাটি ফেলে রাখায় কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় বড় বড় ঢেউ ছুঁয়ে নিচ্ছে বেরিবাধ ঝুঁকির মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দারা।

ইতিমধ্যেই তলিয়ে গেছে, জেলেপল্লী, শুটকি মার্কেট, ঝিনুক মার্কেট, ক্যামেরা পট্টি ও দুইশতর বেশি দোকান সমুদ্র গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ট‍্যুরিস্ট পার্ক, পাবলিক টয়লেট সহ গুরুত্বপূর্ণ দোকানপাট।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী দুলাল বলেন,হঠাৎ সমুদ্রের পানি এভাবে যে বৃদ্ধি পাবে আমরা বুঝতে পারেনি। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-৭ ফুট পানি বেশি হওয়ায় এই ক্ষতি হয়েছে।

লতাচাপলী ইউনিয়নের চাপলীবাজার এলাকার বাসিন্দা কামাল হাসান বলেন, ঘের ও পুকুরের রুই, কাতল, সিলভার কার্প, পাঙাশ, গলদা চিংড়ি ভেসে গেছে। দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের জোয়ারের তাণ্ডবে গঙ্গামতি এলাকার পুরো সৈকত ৫ থেকে ৭ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সৈকত-সংলগ্ন গ্রামের দুই শতাধিক পরিবারের ঘরের মেঝেতে পানি উঠে গেছে। সাগরের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ছে সৈকতে যাতায়াতের পিচঢালা সড়কের ওপর।

কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার বলেন,পৌরসভা থেকে মাইকিং করা হচ্ছে, এবং সবাইকে সচেতন করা হচ্ছে, সকলকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে এবং পৌরসভার পক্ষ থেকে শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

একই সাথে কাউন্সিলর, মনির শরীফ জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবেলায় কুয়াকাটা পৌরসভা থেকে নানা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, আমরা বেরিবাদের বাহির থাকা সবাইকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিচ্ছি এবং তাদের মালামাল যত্নসহকারে রাখার জন্য সাহায্য করছি।

কলাপাড়ার ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন, ‘আমরা কলাপাড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় শুকনো খাবার কেনার জন্য ২৫ হাজার করে টাকা, শিশুখাদ্য কেনার জন্য এক লাখ টাকা এবং গো-খাদ্য কেনার জন্য এক লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউপি ও পৌরসভার চেয়ারম্যানদের এই টাকা দেওয়া হয়েছে। ঝড়ের ভয়াবহতা বাড়লে উপকূলের প্রত্যন্ত এলাকায় ঝুঁকিতে থাকা মানুষজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media




পুরাতন খবর

DEVELOP BY SJ WEB HOST BD
Design By Rana