শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন

কৃষি ঋণ মওকুফ সহ ৭ দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান

কৃষি ঋণ মওকুফ সহ ৭ দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান

কৃষি ঋণ মওকুফ, সার্টিফিকেট মামলা ও গ্রেফতারী পরোয়ানা প্রত্যাহারসহ ৭ দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার কৃষকরা।

রোববার (০৬ জুন) বেলা ১২ টায় উজিরপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হাতে এ স্মারকলিপি তুলে দেয়া হয়। এরআগে ও পরে উপজেলা পরিষদের সামনে বাংলাদেশ কৃষক মজুর সংহতি’র ব্যানারে মানববন্ধন ও সংক্ষিপ্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় উজিরপুর উপজেলার শিকারপুরের মাদারসী গ্রামের বাসিন্দা সুরাত মল্লিক, রফিক হাওলাদার, বারেক মল্লিক নামের কৃষকরা্ জানান, তারা গত বিএনপি’র আমলে স্থানীয় সোনালী ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। তখন এ ঋণ নেয়ার জন্য আবুল কন্টাক্টার নামে পরিচিতো স্থানীয় এক ব্যাক্তি সোনালী ব্যাংকে সেসময় কর্মরত আবুল নামে এক ব্যক্তির মাধ্যম হয়ে এ ঋণ আনতে হয়েছে তাদের। কিছু টাকা পরিশোধের পর ওই দুই ব্যক্তির কাছ থেকে জানতে পারেন কিছু টাকা সরকার মওকুফ করেছে। এতে কারো কারো ঋণের টাকা আর দিতেও হবে না। তবে সম্প্রতি সোনালী ব্যাংক থেকে কর্মকর্তারা তাদের বাড়িতে যাচ্ছেন এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে ঋণ পরিশোধের কথা বলে আসছেন। কিন্তু আবুল নামের ওই দুই ব্যক্তি মারা যাওয়ায় এখন তারা বিপাকে আছেন।

বারেক মল্লিক জানান, তৎকালীন সময়ে অনেক কৃষক যারা মাত্র একটি ঋণ পেয়ছেন কিন্তু এখন তারা দুটি ঋণ নেয়ার কথা শুনছেন।যেমন তিনি ১০ হাজার টাকার ঋণ নিয়েছিলেন, কিন্তু এখন তার নামে দুটি ঋণে ২০ হাজার টাকার নোটিশ নিয়ে ব্যংক কর্মকর্তার খুজছেন।

মনোরঞ্জন ঘরামী নামের অপর কৃষক জানান, তিনি কোন ঋণ-ই ব্যাক থেকে নেননি, অথচ তার নামে ঋণ আছে এমন কথা জানিয়ে সোনালী ব্যাংক থেকে ২০১৮ সাল থেকে লোকজন হয়রানি শুরু করেন।পরে তিনি কাগজপত্র খতিয়ে জানতে পারেন, যিনি ঋণ নিয়েছেন তার নামও মনোরঞ্জন ঘরামী। তবে পিতার নাম, ছবি আর ঠিকানা কিছুরই মিল নেই। পরে ব্যাংকে যোগাযোগ করে একটি ফরমে বিষয়টি উল্লেখ করে জমা দিয়ে আসেন তিনি। একই রকমভাবে একটি ঋণ নিলেও, মোট তিনটি ঋণের বোঝা কাধে ওঠার কথা শুনে অসুস্থ হয়ে পরেছেন তার বাড়ির পাশের এক জ্ঞাতী চাচা।

সেলিম হাওলাদার নামে অপর কৃষক বলেন, কয়েক বছর আগে কৃষি ব্যাংক থেকে ৪০ হাজার টাকার একটি ঋণ নিয়েছেন, তবে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ১ লাখ টাকা পরিশোধের একটি নোটিশ পান তিনি। কিন্তু সেটা লাখ টাকা কিভাবে হলো তা বুঝতে পারছেন না তিনি।

কৃষকরা বলছেন, ব্যাংক কর্মকর্তারা এই করোনার মাঝে তাদের যেভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন, তাতে পালিয়ে বেড়ানো ছাড়া উপায় নেই।

এদিকে কৃষক মজুর সংহতি’র আহবায়ক দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলু বা্ংলানিউজকে বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা চুরি হয়ে যাচ্ছে, সোনালী ব্যাংক থেকে প্রায় ১ শত পরিচালক ১ হাজার কোটি টাকার মতো নিয়ে গেলো। এছাড়া সরকার বড় বড় কোম্পানির হাজার কোটি টাকার সুদ মওকুফ করছে, সেখানে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৭৫ জন কৃষকের ৫১৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা মওকুফ করা কোন ঘটনা নয়। এটি প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছে করলেই এটা পারে।

তিনি বলেন, কৃষক সারা দেশের মানুষের খাবার যোগান দেয়, সেখানে কৃষক মামলার জালে পরে গ্রেফতারী পরোয়ানা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর উজিরপুরে তো ঘটনাটা মনে হচ্ছে পুরোপুরি দুর্নিতী, হয়রানির শিকার হচ্ছেনও বহু কৃষক। এখানে দালালচক্র কৃষকদের ঋণের জালে জড়ানোর জন্য উদ্বুদ্ধ করেছে এবং সেখানে ব্যাংকের লোকজনও জড়িত ছিলো, তাই এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিত।কাগজপত্র নিয়েও কৌশলে কৃষককে ঋণ না দিয়ে আবার তার নামেই তিনবছর পরে নোটিশ দেয়া হচ্ছে যে সে ঋণ নিয়েছে। এছাড়া যে একটি ঋণ নিয়েছে তাকে দুটি ঋণের নোটিম দেয়া হচ্ছে।আর এ কাজটি এখানে কৃষি ব্যাংক তেমন একটা না করলেও, সোনালী ব্যাংক বেশি করেছে।

Please Share This Post in Your Social Media




পুরাতন খবর

DEVELOP BY SJ WEB HOST BD
Design By Rana