শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৩১ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বরিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় ঝড়ে গেলো  তিন শিক্ষার্থীর প্রাণ আইপিডিজি ডিস্ট্রিক গভর্নরকে  ফুলেল শুভেচ্ছা জানান রোটারি ক্লাব অব বরিশালের সভাপতি পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অবৈধ ভাবে মাটি কাটার দায়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা। কলাপাড়ায় সার সরবরাহে সঙ্কট,দিশেহারা কৃষকসহ ডিলাররা। মহান শিক্ষা দিবস উপলক্ষে বরিশালে ছাত্র সমাবেশ বরিশালে কলেজছাত্র হত্যা মামলায় ২ আসামিকে ফাঁসি, ৪ জনের যাবজ্জীবন র্কীতনখোলা নদীর তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ পায়রা সেতু দক্ষিনাঞ্চলে মানুষের জন্য আরেকটি পদ্মা সেতুর মতো-ওবায়দুল কাদের বরিশালে শেবাচিমে ডিজিও বিভাগ চালু মেহেন্দীগঞ্জে ছেলের হাতে আটক বৃদ্ধা মাকে উদ্ধারে ব্যর্থ জনপ্রতিনিধি
বঙ্গবীরের জন্মদিন এবং তাঁর বহিষ্কারের ইতিকথায় আমি

বঙ্গবীরের জন্মদিন এবং তাঁর বহিষ্কারের ইতিকথায় আমি

সোহেল সানি: বঙ্গবীরের আজ জন্মদিন। অশেষ শুভেচ্ছা, অফুরান  অভিনন্দন। ছবিই নামের পরিচয় বহন করে। তারপরও লিখছি, তিনি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম।
দেশে মুক্তিযুদ্ধের অবলম্বনে বেশ কিছু চলচ্চিত্র আছে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় খেতাবধারী কোন বীর সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে বাংলাদেশে চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়েছে মাত্র একটি। নাম তার “বাঘা বাঙালী”। বাঘা বাঙালী আসল ব্যক্তিত্বটি হলেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, চলচ্চিত্রে রূপদান করেন বাংলার নবাব সিরাজুদ্দৌলা খ্যাত অভিনেতা  আনোয়ার হোসেন।
কাদের সিদ্দিকী বঙ্গবীর শুধু নন, তিনি বীর উত্তমও বটে। এই বিদগ্ধ ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে ঘটে যাওয়া একটি সাংঘাতিক পর্বের নেপথ্যে জড়িয়ে গেছে আমার নামটি। সেটি
১৯৯৯ সালের ঘটনা পর্ব। সে সময়ের সাড়াজাগানো দেশের একমাত্র রঙীন দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকা আমার কর্মস্থল। বাংলাদেশ প্রতিদিনের বর্তমান নির্বাহী সম্পাদক শ্রদ্ধেয় পীর হাবিবুর রহমান ভাইয়ের সঙ্গে আমি আওয়ামী লীগ বিটের সহযোগী। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় এখন যারা নেতৃত্ব করছেন বা বড় বড় পদে আছেন তাঁরা হয় সেসময়কার শীর্ষ স্থানীয় দৈনিক ভোরের কাগজ, আজকের কাগজ কিংবা বাংলাবাজার পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন। ১৯৯৯ সালে খুব সম্ভবত মোল্লাহ আমজাদ হোসেন অথবা চৌধুরী জহিরুল ইসলাম চিফ রিপোর্টার ছিলেন। আমাকে বলা হলো বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে টুঙ্গিপাড়ায় যেতে। এটা আমার অ্যাসাইমেন্ট। বঙ্গবীরের বাড়ি থেকেই প্রাইভেট কারে করা রওয়ানা হওয়া। সঙ্গে আনোয়ার হোসেন বীর প্রতীক এবং বঙ্গবীরের পতœী। পেছনে একটি মাইক্রোবাসে নেতার সহকর্মীরা। বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত করে সেখানে একটি সমাবেশে বঙ্গবীর ভাষণ দেবেন। ভারতে রাজনৈতিক নির্বাসন থেকে স্বদেশে ফেরার দিন যে নেতাকে দেখতে লাখ লাখ মানুষ বিমানবন্দর অভিমুখে যাত্রা করে, সেই নেতার টুঙ্গিপাড়ায় সমাবেশ বলে কথা। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী তখন তুমুল জনপ্রিয়। আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির এক নম্বর সদস্য। দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য একাত্তরের রণাঙ্গনে নেতৃত্ব করেছেন কাদেরিয়া বাহিনীর বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রূপে আর তার সাড়ে তিন বছরের মাথায় জাতির পিতার হত্যায় গর্জে ওঠেন সশস্ত্র বীর মহাযোদ্ধা হিসাবে।  বঙ্গবন্ধু হত্যার সশস্ত্র প্রতিবাদকারী বীর মহাযোদ্ধা হিসাবে বঙ্গবন্ধুর সৈনিকদের কাছে কাদের সিদ্দিকী একটি অনুভূতির নাম। বঙ্গবীরের সঙ্গে যেতে একটি সাক্ষাতকার নিতে হবে এ চিন্তাটা মাথায় ঢুকে ছিলো। তাই আমার টেপরেকর্ডারটি পকেটে ঢুকিয়ে নিয়েছিলাম। বীর নায়কেরা যে
প্রাণখোলা হন, সেটা সিনেমার পর্দায় দেখেছি। বিশেষ করে বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্র “ইৎবাব যবধৎঃ” দেখার পর উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম। আর বাস্তবিক চোখে দেখলাম বঙ্গবীর নামক এক দেশপ্রেমিক যোদ্ধাকে। বঙ্গবন্ধুর আহবানে সাড়া দিয়ে বঙ্গবীর তাঁর কাছে মজুদ থাকা লক্ষাধীক অস্ত্র জমা না দিলে জাতির পিতা হত্যার প্রতিরোধ যুদ্ধটা কেমন হতো, মাঝেমধ্যে এই কথাটা উঁকি দেয়। কিন্তু লেখা হয়ে ওঠে না। আজ তাঁর জন্মদিনে একটা স্ট্যাটাস দিতে মনটাই যেন ধাক্কাচ্ছিল ব্রেইনটাকে।
যাহোক স্ট্যাটাসের ভাষা খুঁজতে গিয়ে মনটা বিড়বিড় করছিলো, কিন্তু ঘটনাপ্রবাহটির ইঙ্গিত দিয়েও আমাকে যেতে হয়েছে বঙ্গবীরের শৌর্যবীর্যের ইতিকথার দিকে।
এখন বলছি তাঁর সঙ্গে টুঙ্গিপাড়া সফরের উপাখ্যান নিয়ে।
যেতে যেতে আমার নগরবাড়ি ফেরিঘাট পৌঁছেছি। ফেরিতে মজা করে ধুমছে ইলিশ খাওয়া হলো, সঙ্গে তেলেভাজা শুকনো মরিচ তো ছিলোই। খাওয়াদাওয়া শেষ, কিন্তু ফেরি ঘাটে পৌঁছতে বেশ সময় লাগবে। সাক্ষাতকার নেয়ার ইচ্ছা পোষণ করতেই বললেন, অবশ্যই নিবে – এতদূর এসেছো নিউজ তো তোমার চাই। আমি খুশি হয়ে বললাম, লিডার আমাক প্রশ্ন শুরুর অনুমতি দিলে…. বঙ্গবীর সহাস্যমুখে বললেন, ইয়েস মাই ডিয়ার জার্নালিস্ট প্রশ্ন করতে পারো।
পার্বত্য শান্তি চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তাপ এখন, তো আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করছেন? কোন ঘটা না করেই টেনে বলে চললেন… “আমাদের প্রধানমন্ত্রী আমার ছোট বোন শেখ হাসিনা পার্বত্য শান্তি চুক্তির নামে প্রকারান্তরে দেশকে বিক্রি করে দিয়েছেন।”  আপনি আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির এক নম্বর সদস্য এবং সংসদ সদস্য… এটা বলতেই বঙ্গবীর বলে উঠলেন, তাতে কি আব্দুল কাদের সিদ্দিকী যেটা বিশ্বাস করে সেটা বলবেই, সত্য কথা বলতে দ্বিধা করিনা। যে কথাটি আপনি বলছেন, সেটা তো বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার জাতীয় পার্টি নেতা এরশাদ এবং জামায়াত জোটবদ্ধ হয়ে বলছে?
রাগস্বরে কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম বললেন, কে কি বলছে সেটা এখন আমি শুনতে চাইনা। বরং আমি আবারও বলছি প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য চুক্তি দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে বিকিয়ে দেয়া হয়েছে – এককথায় দেশ ভারতের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। আমি টেপরেকর্ডারে যে কথাগুলো ধারণ করলাম বঙ্গবীরের অনুমতি নিয়েই। শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধুর খুনী রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করলেন। পঁচাত্তরে নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরলেন। প্রধানমন্ত্রীর চারপাশে চাটুকার এমন অভিযোগ করে কারো কারো নামও উল্লেখ করেছিলেন কাদের সিদ্দিকী। পৌঁছে গেলাম টুঙ্গিপাড়া। প্রচন্ড ঝড়বৃষ্টির মধ্যে কোনরকম সমাবেশে ভাষণ দিলেন বঙ্গবীর। জাতির পিতা মাজার জিয়ারত করতে গিয়ে শিশুর মতো অঝোরে কাঁদলেন। সেই দৃশ্য দেখে আমাদের সবার চোখেই বয়ে ছিল কান্নার সাঁতার। ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা। ঢাকায় পৌঁছতে রাত ১ টা বেজে গেছে। বাংলাবাজার পত্রিকা
দ্বিতীয় সংস্করণ শেষে সবাই চলে গেছেন। ১৯৯৯ সালেই আমার হাতে মোবাইল। অফিস বন্ধ দেখে ফোন করি সম্পাদক প্রকাশক মোহাম্মদ জাকারিয়া খানকে।তিনি সাক্ষাতকারের বিষয়বস্তু শুনে দারুণ কৌতূহলভরে গুলশানের বাসা থেকে গাড়ি ড্রাইভ করে সোজা তেজগাঁও বাংলাবাজার পত্রিকা অফিসে ছুটে আসেন। এর মধ্যে দেখি বার্তা সম্পাদক আব্দুল মোক্তাদিরও হাজির। মোক্তাদির ভাই তড়িঘড়ি করে   আমার সাক্ষাতকারটি নিজেই টাইপ করলোন এবং লিড নিউজটি উঠিয়ে দিয়ে সেখানে লাল হেডিং এ আমার লেখাটি বসালেন। মূল হেডিং “প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য শান্তি চুক্তির নামে ভারতের কাছে দেশ বিক্রি করে দিয়েছেন।” উপরের ছোট্ট করে হেডিং করা হলো – বললেন সরকার দলীয় এমপি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী।
প্রধানমন্ত্রী ওদিনই কেবল বিদেশ সফর শেষে বাংলাদেশ ফিরেন। বিমান বন্দরে প্রেসব্রিফিং – এ দৈনিক জনকণ্ঠের সিনিয়র সাংবাদিক ওবায়দুল কবীর
প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন পত্রিকাটির। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পত্রিকাটিতে চোখ বুলিয়েই বলেন, “পাগলে কিনা বলে ছাগলে কিনা খায়”। খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরের দিন সংবাদপত্রে প্রধানমন্ত্রীর এ উক্তি প্রকাশ হলে তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম এমপি।
এনিয়ে আওয়ামী লীগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ১৯ জুন -১৯৯৯ আমাকে প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন রাজনৈতিক উপদেষ্টা ডাঃ এস মালেক তাঁর ৮২ বশির উদ্দিন রোডের বাড়িতে ডেকে নিয়ে বলেন, কাদের সিদ্দিকী বহিষ্কার হচ্ছেন। তুমি জিল্লুর রহমান সাহেবের সঙ্গে দেখা করো, তাঁকে না পেলে আব্দুস সামাদ আজাদ সাহেবের সঙ্গে। আব্দুস সামাজ আজাদ তখন পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং  জিল্লুর রহমান এলজিআরডি মন্ত্রীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। দুই নেতারই আমি স্নেহভাজন ছিলাম। ২১ জুন মাননীয় মন্ত্রী জিল্লুর রহমানকে ফোনে পেয়ে গেলাম। তিনি বললেন এসব বিষয় ফোনে বলা যাবে না, আসলে বাসায় আসো। আমি চলে গেলাম তাঁর গুলশানের বাড়িতে। তিনি বললেন, “২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর দিন ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে।  কাদের সিদ্দিকী বহিষ্কার হচ্ছে। বিনয়ের সঙ্গে বললাম, লিডার আমি কি আপনার বরাত দিয়ে রিপোর্ট করতে পারি? বললেন না, না। তুমি ঘনিষ্ঠ সূত্র দিয়ে ছেড়ে দাও। আমি এতেই সন্তুষ্ট হয়ে অফিসে চলে আসি। জিল্লুর রহমানের কথা বলতেই সম্পাদক জাকারিয়া খান বললো চুপচাপ থাকো কাউকে কিছু বলবে না। ২২ জুন লিড স্টোরি হলো- ” কাদের সিদ্দিকী আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার হচ্ছেন আজ” শিরোনামে। বুক ধুকধুক করছিলো যদি বহিষ্কার না হন, তাহলে আমার কি হবে। যাহোক সন্ধ্যায় বসলো আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক। বৈঠকে ঠিকই আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হলো ওয়ার্কিং কমিটির এক নম্বর সদস্য কাদের সিদ্দিকীকে। কয়েকদিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী সংসদ সদস্য পদও বাতিল করলেন রুলিং দিয়ে। আমি অফিসে অভিনন্দিত। পুরস্কৃতও হলাম। রাতেই দেখি বিরাট লম্বা সেই মানুষটা বাংলাবাজার পত্রিকা অফিসে হাজির। জাকারিয়া খানের কক্ষে গিয়ে ঢুকলেন। আমাকে কেউ কেউ বললেন সরে যেতে। আমি আমার চেয়ারে বসে থাকলাম। মুহূর্তে ডাক পড়লো সম্পাদকের কক্ষে। আমি হাজির হতেই হাত বাড়িয়ে দিলেন বঙ্গবীর। আকাশ থেকে পড়লাম। তিনি দাঁড়িয়ে গিয়ে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন, আমি তাঁর বিশালতা অনুভব করলাম। বললেন, ধন্যবাদ সোহেল সানি, তোমার রিপোর্ট ফলেছে, আমাকে পদ থেকে ওরা বহিষ্কার করেছে – কিন্তু ওরা আমাকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বহিষ্কার করতে পারবে না। মোহাম্মদ জাকারিয়া খানকে তুমি সম্মোধন করে বঙ্গবীর বললেন, ওকে প্রমোশন দিয়ে দাও ওকেই তো আমি সাক্ষাতকারে বলেছি যে, প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য শান্তি চুক্তির নামে ভারতের কাছে দেশ বিক্রি করে দিয়েছেন, হ্যাঁ এটা সত্য কথা, এটা আমি বলেছি – হাজার বার লাখো বার আমি বলবো। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরের মতোই কথাগুলো বলে যাচ্ছিলেন। আমি হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম তাঁর এমন সাহসী উচ্চারণ শুনে। এরপর বললেন, সোহেল সানি তুমি আমার সংবাদ সম্মেলনে এসো – আমি রাজনীতি করবো, রাজনৈতিক দলও করবো। সংসদ সদস্য পদ চলে যাওয়ার পর তাঁর সেই হারানো টাঙ্গাইল আসনের উপনির্বাচনেই প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচন তার জয় ছিনিয়ে আনতে পারেনি। পরবর্তীতে কাদের সিদ্দিকী বাংলাদেশ জনতা লীগ গঠন করেন এবং সেই দলের নেতৃত্বেই আছেন।
পবিত্র হজ্জ নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের দায়ে শেখ হাসিনা সরকারের অন্যতম মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কার হন। তিনি মন্ত্রীত্ব শুধু নয় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য পদ এমনকি সাধারণ সদস্য পদও হারান। লতিফ সিদ্দিকীর বহিষ্কারের খবরের পাশে কাদের সিদ্দিকী কিভাবে বহিষ্কার হয়েছিলেন – সে সম্পর্কে একটি বিশেষ রিপোর্ট করা হয় নাঈমুল ইসলাম খান সম্পাদিত দৈনিক আমাদের অর্থনীতিতে। আবুল বাশার নূরু আমার বক্তব্য উদ্বৃত্ত করে ওই রিপোর্টটি করে। এজন্য আমি কৃতার্থ। ১৯৯৯ সালে টিভি বা সংবাদপত্রের সংখ্যা এতো ছিলো না। ছিলেন না এতো সংখ্যক সাংবাদিকও। ছিলো না সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বলতে আজকে যেসব মাধ্যমকে দেখা যাচ্ছে। হয়তো এ কারণে বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর বহিষ্কারের ইতিহাসের সঙ্গে আমার যোগসূত্র চাপা পড়ে গেছে। তবে নিশ্চয়ই চাপা পড়েনি, কোনদিনও পড়বে না বঙ্গবীরের। কেননা এটি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের উত্থান-পতন তৈরি করেছে অথবা ছন্দপতন ঘটিয়েছে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের।
শুভ জন্মদিন এই মহান নেতা বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম। আপনি বেঁচে থাকবেন বঙ্গবন্ধুর সৈনিকদের মনের মনিকোঠায় – অনন্তকাল ধরে। কারণ আপনিই একমাত্র সেই যোদ্ধা যিনি অস্র হাতে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। স্যালুট বঙ্গবীর। আপনি দীর্ঘজীবী হোন।

সোহেল সানি : সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Please Share This Post in Your Social Media




পুরাতন খবর

DEVELOP BY SJ WEB HOST BD
Design By Rana