শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৪৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বরিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় ঝড়ে গেলো  তিন শিক্ষার্থীর প্রাণ আইপিডিজি ডিস্ট্রিক গভর্নরকে  ফুলেল শুভেচ্ছা জানান রোটারি ক্লাব অব বরিশালের সভাপতি পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অবৈধ ভাবে মাটি কাটার দায়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা। কলাপাড়ায় সার সরবরাহে সঙ্কট,দিশেহারা কৃষকসহ ডিলাররা। মহান শিক্ষা দিবস উপলক্ষে বরিশালে ছাত্র সমাবেশ বরিশালে কলেজছাত্র হত্যা মামলায় ২ আসামিকে ফাঁসি, ৪ জনের যাবজ্জীবন র্কীতনখোলা নদীর তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ পায়রা সেতু দক্ষিনাঞ্চলে মানুষের জন্য আরেকটি পদ্মা সেতুর মতো-ওবায়দুল কাদের বরিশালে শেবাচিমে ডিজিও বিভাগ চালু মেহেন্দীগঞ্জে ছেলের হাতে আটক বৃদ্ধা মাকে উদ্ধারে ব্যর্থ জনপ্রতিনিধি
সেই নারী খাদ্য পরিদর্শকের হট রিলেশন, ম্যানেজ করেন দু’নৈশ প্রহরী

সেই নারী খাদ্য পরিদর্শকের হট রিলেশন, ম্যানেজ করেন দু’নৈশ প্রহরী

এম.জাফরান হারুন, নিজস্ব প্রতিনিধি, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর কলাপাড়া খাদ্য অধিদপ্তরে নারী খাদ্য পরিদর্শক এখন অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রক। অধিদপ্তরের খাদ্য নিয়ন্ত্রক সহ বেশ ক’টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় অধিদপ্তরে চলছে গিভ এন্ড টেক রিলেশন। কাগজে খাদ্য নিয়ন্ত্রকের প্রতি স্বাক্ষর থাকলেও সবই করেন ওই নারী খাদ্য পরিদর্শক।

এতে অধিদপ্তরের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ডিলার, ওএমএস ডিলারের সাথে তার গড়ে উঠেছে গিভ এন্ড টেক রিলেশন। ডিলাররা তাদের বরাদ্দের চাল ছাড়িয়ে নিতে অফিসে এলে সবকিছু ম্যানেজ করেন খাদ্য গুদামের দু’নৈশ প্রহরী।

কলাপাড়া খাদ্য অধিদপ্তরে ৪টি পদ রয়েছে। খাদ্য নিয়ন্ত্রকের পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন এক কর্মকর্তা। যিনি খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে পটুয়াখালী সদর, মির্জাগঞ্জ ও বাউফল উপজেলারও দায়িত্ব পালন করায় কলাপাড়া অফিসে খুব একটা তাকে দেখা যায়না।

খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন স্থানীয় এক নারী কর্মকর্তা। যিনি দীর্ঘবছর একই কর্মস্থল ও স্থানীয় প্রভাবশালী পরিবারের মেয়ে হওয়ায় অধিদপ্তরে ঢুকে পড়েছে কালো বেড়াল।

এছাড়া উপ-খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে একজন থাকলেও তিনি রাঙ্গাবালী খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা হিসেবে সংযুক্তিতে রয়েছেন। অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদটি দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় খাদ্য গুদামের দু’জন নৈশ প্রহরী দিয়ে অধিদপ্তর চালাচ্ছেন প্রভাবশালী ওই নারী খাদ্য পরিদর্শক। যার মধ্যে একজন নৈশ প্রহরী আবার তার আত্মীয় হন।

এছাড়া জবাব দিহিতা ও স্বচ্ছতার অভাবে অধিদপ্তরের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর উপকার ভোগীর নামের তালিকায় একাধিক নাম রয়েছে বিত্তবান শ্রেনীর মানুষের।

ওএমএস তালিকা নিয়েও রয়েছে অনেক অস্পষ্টতা। ৩৩ জন খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ডিলার ও ৭ জন ওএমএস ডিলার নিয়োগ নিয়েও রয়েছে নানা গুঞ্জন। সবকিছুই করা হয়েছে নীতিমালা বহির্ভূত ভাবে। খাদ্য বান্ধব ও ওএমএস ডিলারদের ব্যাংক চালান পর্যন্ত লিখে টাকা ব্যাংকে জমা দেয় অধিদপ্তর। একই অফিসে দীর্ঘদিন কর্মরত থাকায় নারী খাদ্য পরিদর্শকের সাথে ডিলারদের এভাবে গড়ে উঠেছে গিভ এন্ড টেক রিলেশন। শুধু তাই নয় অধিদপ্তরের এক ওএমএস ডিলারের সাথে রয়েছে তার হট রিলেশন। এমন অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগে ৩ আগষ্ট নারী খাদ্য পরিদর্শকের বিরুদ্ধে কলাপাড়া থানায় (৯৫ নম্বর) জিডি করেছেন এক ওএমএস ডিলারের স্ত্রী।

এছাড়া দুর্যোগ ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের জিআর, টিআর, কাবিখা, ভিজিএফ এবং মহিলা ও শিশু অধিদপ্তরের ভিজিডি বরাদ্দ ছাড়ে জনপ্রতিনিধিদেরও মেট্রিক টন হারে যোগাযোগ রাখতে হয় অধিদপ্তরের সাথে। যেখানে নারী খাদ্য পরিদর্শক সব কিছুর নিয়ন্ত্রক। তার সাথে আছেন দু’জন নৈশ প্রহরী। যদিও কাগজে স্বাক্ষর রয়েছে একজন খাদ্য নিয়ন্ত্রকের। তিনি শুধুই স্বাক্ষর করেন।

গত বৃহস্পতিবার (৫ আগষ্ট) সকালে কলাপাড়া খাদ্য অধিদপ্তরে গিয়ে দেখা যায়, কর্মকর্তার চেয়ার ফাঁকা। খাদ্য নিয়ন্ত্রকের চেয়ারে যে নারী খাদ্য পরিদর্শক বসতেন সেও অফিসে নেই। তার কম্পিউটারের কিবোর্ড টিপে টাইপিং শিখছেন নৈশ প্রহরী। ক্যামেরার বাটন অন করতেই ফ্রেম থেকে সটকে বেরিয়ে যান ওই নৈশ প্রহরী।

কলাপাড়া খাদ্য অধিদপ্তরের এসব বিষয়ে জানতে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক ধ্রুব মন্ডলের সাথে মুঠো ফোনে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। অত:পর তার মুঠো ফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া মেলেনি। তবে অধিদপ্তরের পরিদর্শক আরিফা সুলতানা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি মহল তার বিরোদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

কলাপাড়া ইউএনও আবু হাসনাত মোহম্মদ শহিদুল হক বলেন, এটি খাদ্য অধিদপ্তরের বিষয়। তাদের আলাদা ম্যানেজমেন্ট রয়েছে।

জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো: লিয়াকত আলী বলেন, এসব বিষয় আমি অবগত নই। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।####

Please Share This Post in Your Social Media




পুরাতন খবর

DEVELOP BY SJ WEB HOST BD
Design By Rana